Snack's 1967
ক্লাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে রংপুরমেডিকেল কলেজ হাসপাতালের(রমেক) চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ একেএম নুরুন্নবী লাইজুর বদলী আদেশ প্রত্যাহারের দাবীতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ(স্বাচিপ) রমেক শাখা।
চিকিৎসক নেতৃবৃন্দের অভিযোগ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে এই মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। আর এই মিথ্যা অভিযোগে জনপ্রিয় শিক্ষক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডাঃ একেএম নুরুন্নবী লাইজু বদলী আদেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে সহকারী অধ্যাপক ডাঃ একেএম নুরুন্নবী লাইজুর বদলীর আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মঙ্গলবার রাতে স্বাচিপ নেতৃবৃন্দ তার বদলীর আদেশ প্রত্যাহারের দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি কলেজ অধ্যক্ষের কাছে পেশ করেন। স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, এই অপপ্রচার নির্দিষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মহানবী হযরত(সঃ) সম্পর্কে কটূক্তি করার অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার বদলীর আদেশ প্রত্যাহার করা না হলে ক্লাস বর্জনসহ অনির্দিষ্ট কালের ধর্মঘটের ডাক দেয়া হবে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল ৩৮ তম ব্যাচের ক্লাসে সহকারী অধ্যাপক ডাঃ একেএম নুরুন্নবী লাইজু মন্তব্য করেন, নবী করিম (সাঃ) বিবি খাদিজা (রাঃ) কে সম্পদের লোভে বিয়ে করেছিলেন এবং জয়নাবকে বিয়ের ব্যাপারে আল্লাহর কাছ থেকে জোর করে ওহি নাজিল করে তা জায়েজ করে নিয়েছিলেন । এই ক্লাসে তার বিরুদ্ধে বিশ্ব নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ তোলেন ওই ব্যাচের দু শিবির কর্মী ছাত্র। ডাঃ লাইজুর বিরুদ্ধে তারা অভিযোগ এনে কলেজ অধ্যক্ষের কাছে বেনামে একটি স্মারকলিপি দেয়।
এই স্মারকলিপির কথা জানা জানি হলে ঐ অভিযোগ মিথ্যা আখ্যায়িত করে মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কাছে পালটা স্মারকলিপি প্রদান করে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঐ স্মারকলিপিতে বলা হয়, অরাজকতা সৃষ্টি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিঘ্নিত করার জন্যই উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা চালান জামাত-শিবির পন্থী ছাত্র-শিক্ষকরা। সেই উত্তেজনা শহরের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায়ও ছড়ানোর চেষ্টা চালানো হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কোন তদন্ত ছাড়াই বদলী করা হয় ডাঃ লাইজুকে।
তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্কে ডাঃ নুরুন্নবী লাইজু রংপুর ওয়েবকে বলেন, সেদিন কেন কোন ক্লাসেই তিনি মহানবী হযরত(সঃ) সম্পর্কে তিনি কোন কটূক্তি করেননি। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে ছাত্র শিবির ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে। তিনি অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে বেনামে একটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে । বেনামে দেয়া কোন অভিযোগ আমলযোগ্য নয়। তারপরও সেটিকে আমলে নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে কোন তদন্ত ছাড়া এবং তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি করে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে তাকে বদলী করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্নীতির মাধ্যমে মেডিকেল কলেজে ৯৭ জন এবং মেডিকেল হাসপাতালে ১৮০ জন কর্মচারী নিয়োগ দেয়াসহ কলেজে নানা দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। এ নিয়ে অধ্যক্ষসহ একটি মহল তার উপর ক্ষিপ্ত ছিল। তাছাড়া, সামনে সচিব নির্বাচন। সেই নির্বাচনকে ঘিরে আমাকে কলেজ থেকে তাড়ানোর উদ্দেশ্যে অধ্যক্ষের মদদে অধ্যক্ষের অনুগত কিছু শিক্ষক জামাত-শিবির-বিএনপি পন্থীদের ইন্ধন যোগাচ্ছে।
ডাঃ লাইজু জানান, ওই দিন তার কলেজের ছাত্র মোবাশ্বের নিয়ম ভঙ্গ করে অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ক্লাসে প্রবেশ করে। সে সময় তার মুখে ছিল খোঁচা খোঁচা দাড়ি, পায়ে স্যান্ডেল ও বেশভূষা ছিল অপরিচ্ছন্ন যা মেডিকেল কলেজের নিয়ম বহির্ভূত। তিনি তাকে দাড়ি রাখার মত রাখতে অথবা ক্লিন শেভ করে পরিচ্ছন্ন হয়ে ক্লাস করার পরামর্শ দেন। এ কথাকে ঘুরিয়ে শিবির পন্থী ছাত্ররা দাড়ির বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়া হয়েছে বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে। মসজিদ, মাদ্রাসা এমনকি ফেসবুকেও তারা এ অপপ্রচার চালিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পায়তারা করছে। তিনি বলেন, তারা হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে কটূক্তির মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে মুসলিম জাতির কাছে অপরাধী বানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঈমানদার মুসলমান হিসেবে তিনি একআল্লাহ্‌, ইসলাম ও নবী করিম (সাঃ) এর প্রতি বিশ্বাসী ও একনিষ্ঠ অনুসারী। তিনি বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির ইন্ধনদাতাদের খুঁজে বের করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ব্যাপারে রমেক অধ্যক্ষ ডাঃ আব্দুর রউফ রংপুর ওয়েবকে বলেন , 'এই অভিযোগের পক্ষে বিপক্ষে পাল্টাপাল্টি তিনটি স্মারকলিপি পেয়েছি। তবে এই বদলীর ব্যাপারে আমার কোন হাত নেই। মন্ত্রণালয় থেকেই তার বদলীর আদেশ এসেছে। এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুত সমস্যার একটি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য আমি বদ্ধ প্রতিকর'

সুত্রঃ রংপুর ওয়েব.কম
facebook sharehere